‘উত্তর কোরিয়ার দ্বিমুখী অ্যাটম বোমার আঘাতে ধ্বংস হবে ৯০ শতাংশ মার্কিনি’

মার্কিন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক-ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক কোনো বোমা আমেরিকায় আঘাত হানলে দেশটির জনসংখ্যার নব্বুই শতাংশেরও বেশি মানুষ নিহত হবে।ন্যাটো জোটের অন্যতম সাবেক সেনা-কমান্ডার ও মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক অ্যাডমিরাল জেমস স্ট্যাভরিডিস এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।সম্প্রতি ‘বিজিনেস ইনসাইডার’ সাময়িকীকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে উত্তর কোরিয়ার এই দু-মুখো পরমাণু বোমার হামলা সম্পর্কে হোয়াইট হাউজকে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেছেন, এ ধরনের হামলা সফল হলে মার্কিন জনসংখ্যার ৯০ শতাংশই ধ্বংস হয়ে যাবে।

স্ট্যাভরিডিস এই দ্বিমুখী পরমাণু অস্ত্র সম্পর্কে আরও বলেছেন, এই বোমা বিস্ফোরণের ফলে পারমাণবিক বিস্ফোরণ ছাড়াও আরও তিন হামলার ঢেউ বয়ে যাবে গোটা আমেরিকার ওপর। আর এক্ষেত্রে প্রথমে পানি ও তাপ-নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং এসবের তথ্য-সিস্টেমগুলো ধ্বংস হবে, দ্বিতীয় পর্যায়ে এক মাইক্রো-সেকেন্ডে আগের চেয়ে কিছুটা দুর্বল অথচ অভিন্ন হামলা ঘটবে এবং তৃতীয় পর্যায়ে কয়েক মিনিটের মধ্যে গোটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো ধ্বংস হয়ে যাবে। এ ধরনের বোমা হামলার ফলে সপ্তাহ’র পর সপ্তাহ ও মাসের পর মাস এবং এমনকি দুই বছর পর্যন্ত বিদ্যুৎ থেকে বঞ্চিত হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে প্রস্তুতির কথা জানানো হচ্ছে তখন এসব তথ্য প্রকাশ করলেন মার্কিন এই সাবেক সেনা-কমান্ডার।

আরো পড়ুন >> মরক্কোর অভিযোগ নাকচ করল ইরান

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কো যে অভিযোগ তুলেছে তা জোরালো ভাষায় নাকচ করেছে তেহরান। মরক্কো বলেছে, পশ্চিম সাহারায় তৎপর বিচ্ছিন্নতাবাদী পলিসারিও ফ্রন্টের সঙ্গে আলজেরিয়ায় ইরানি দূতাবাসের যোগাযোগ রয়েছে।

অভিযোগের জবাবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি আজ (বুধবার) বলেছেন, আলজেরিয়া সমর্থিত পলিসারিও’র সঙ্গে ইরানি দূতাবাসের কোনো সহযোগিতা নেই। গতকাল মরক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাসের বুরিতা অভিযোগ করেছিলেন, তেহরান এবং লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ পলিসারিও সদস্যদেরকে আলজেরিয়ায় ইরানি দূতাবাসের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র দিচ্ছে। এ অভিযোগে মরক্কো ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে।অভিযোগ সম্পর্কে বাহরাম কাসেমি বলেন, মরক্কোর এ অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে ভিত্তিহীন, ভুল এবং বাস্তবতা বিবর্জিত।

তিনি বলেন, “আমরা আবারো পরিষ্কার করে বলছি যে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্রনীতির মৌলিক নীতি হচ্ছে- সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রেখে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক অব্যাহত রাখা এবং কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা।” হিজবুল্লাহ আন্দোলনও রাবাতের অভিযোগ নাকচ করেছে। সংগঠনটি এক বিবৃতিতে বলেছে- আমেরিকা, সৌদি আরব ও ইসরাইলের চাপে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে মরক্কো।১৯৭৫ সালে পশ্চিম সাহারাকে নিজের ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করে নেয় মরক্কো এবং দক্ষিণ প্রদেশ হিসেবে গণ্য করে। কিন্তু ওই অঞ্চলে তৎপর বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন পলিসারিও ফ্রন্ট আত্ন-নিয়ন্ত্রণাধিকারের জন্য সেখানে গণভোট দাবি করে আসছে।#