কর্মসূচির জন্য অনুমতি চাওয়া হয়েছে: রিজভী

কর্মসূচির জন্য অনুমতি চাওয়া হয়েছে: রিজভী
বিএনপি জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কুমিল্লায় দায়ের করা ‘মিথ্যা’ মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আপিল বিভাগ স্থগিত করেছেন, যা নজিরবিহীন। সর্বোচ্চ আদালতে জামিন স্থগিত হওয়ার ঘটনাটি সম্পূর্ণরূপে ‘সরকার নির্দেশিত’।

নয়াপল্টনে আজ মঙ্গলবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী এ অভিযোগ করেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আদালতের উচ্চপর্যায়ে ভুক্তভোগী মানুষ প্রতিকার পায়। অবৈধ সরকার নিম্ন আদালতকে সম্পূর্ণভাবে কবজায় নিয়ে এখন সর্বোচ্চ আদালতকেও হাতের মুঠোয় নিয়েছে কি না, সেটি নিয়ে জনগণের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। শেখ হাসিনা জোর করে ক্ষমতায় আছেন বলেই বিচারিক প্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের উদ্দেশে রিজভী বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ১/১১-এর সরকারের দায়ের করা ১৫টি মামলা ক্ষমতার জোরে প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘটনাতে কি বিচারের বাণী খুশিতে আনন্দ–উল্লাস শুরু করেছিল? রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা সর্বোচ্চ আদালতকে সরকারের মুখপাত্রে পরিণত করার বন্দোবস্ত করছেন।’

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ নেতারা হামলা করেছেন উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ছাত্রলীগের ধারাবাহিক বর্বর, পৈশাচিক হামলায় সারা দেশের মানুষ ক্ষোভে ধিক্কার জানাচ্ছে। গতকাল বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা রড, হাতুড়ি, বাঁশের লাঠি দিয়ে সাপ মারার মতো আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের দাবির মুখে প্রায় দুই মাস আগে জাতীয় সংসদে সম্পূর্ণরূপে কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন। সেদিনই বিএনপি বলেছিল, এই ঘোষণা একটি নাটক ও ছাত্র আন্দোলনের প্রতি প্রতারণা। এখন সেটি অক্ষরে অক্ষরে দৃশ্যমান হচ্ছে। আসলে সেদিন প্রধানমন্ত্রী ক্ষুব্ধ হয়ে জনরোষ থেকে বাঁচতে প্রতারণার কৌশল নিয়েছিলেন। আন্দোলনের প্রতি ছাত্রলীগের আচরণে এটা আবারও প্রমাণিত হলো।

কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে ৫ জুলাই বিক্ষোভ সমাবেশ করতে চায় বিএনপি। নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বেলা তিনটায় সমবেত হওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন দলের নেতা-কর্মীরা। এ জন্য অনুমতি চেয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র বরাবর আবেদনপত্র জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রিজভী।

বিএনপির প্রতীকী অনশন কর্মসূচি ৯ জুলাই সকাল নয়টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। রুহুল কবির রিজভী বলেন, পূর্বঘোষিত এই কর্মসূচি পালনের জন্য রমনায় ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স ও মহানগর নাট্যমঞ্চ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। যেখানে অনুমতি পাওয়া যাবে, সেখানেই প্রতীকী অনশন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

ছাত্ররা ‘সন্ত্রাসী দলের’ নিপীড়নের শিকার: খসরু
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের ছাত্রসমাজ আজ একটি ‘সন্ত্রাসী’ দলের নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার। এই দলটিকে আন্তর্জাতিকভাবে সন্ত্রাসী দল হিসেবে পরিচিত করা উচিত। তাদের নির্যাতন-নিপীড়নে আজ বাংলাদেশের সব মানুষ নীরবে কাঁদছে।

ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে আজ মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ মন্তব্য করেন। কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে কোটাপদ্ধতি বাতিলের দাবিতে ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরাম’ নামের একটি সংগঠন সমাবেশের আয়োজন করে।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, কোটা সংস্কারের দাবিতে যখন গোটা বাংলাদেশে জেগে উঠেছে, তখন জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী সব কোটাব্যবস্থা বাতিল করে দিলেন। তিনি বলেন, যদি কেউ জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেন, সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা তাঁর দায়িত্ব। কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ‘প্রতারণা’ করেছেন। এর ফলে মেধাবী বাংলাদেশ গড়ে উঠছে না, বঞ্চিত হচ্ছে।

সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু বলেন, ছাত্ররা আন্দোলন করছে কোটা সংস্কারের জন্য, বাংলাদেশের আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ উন্মুক্ত করার জন্য। তিনি আরও বলেন, যেভাবে সরকারি লোকেরা ছাত্রদের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, তা অবিশ্বাস্য। এই ছাত্রসমাজ আন্দোলন করছে কোটা সংস্কারের মাধ্যমে ভবিষ্যতে মেধাবীরা যেন বাংলাদেশ পরিচালনায় অংশগ্রহণ করতে পারে।

আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

খুলনা, সিলেট ও রাজশাহী সিটি নির্বাচন সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ জন্য অতীতের নির্বাচনগুলোর ত্রুটি নিরূপণের কাজ করা হচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। এ সময় তাঁর কথায় এসব তথ্য ওঠে আসে।

মাহবুব তালুকদার বলেন, খুলনা ও গাজীপুরে কিছু অনিয়ম হয়েছে। আর সে কারণে কিছু কেন্দ্র বন্ধ করা হয়েছে। অতীতের ভুলভ্রান্তি চিহ্নিত করে ইসি তিন সিটি করপোরেশনে অবাধ, নিরপেক্ষ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে চায়। পাশাপাশি গাজীপুরের নির্বাচন নিয়ে গণমাধ্যমে অনিয়মের যেসব প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, তারও সত্যতাও নিরূপণ করা হচ্ছে।

মাহবুব তালুকদার বলেন, গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন কেমন হয়েছিল—তা পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) তাঁকে দায়িত্ব দিয়েছেন। এটা নিয়ে তিনি কাজ করছেন।

মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘গাজীপুর নির্বাচনে কোনো কোনো কেন্দ্রে ২০ ভাগের কম ভোট পড়েছে, আবার কোনটিতে ৮০ ভাগের বেশি ভোট পড়েছে—এটা কেন হয়েছে? এসব বিষয়কে একটি আলোচনার বৃত্তের মধ্যে আনতে চাই। ওখানে যেসব অনিয়মের কথা গণমাধ্যমে বেরিয়েছে, এর সত্যতা নিরূপণ করতে চাই।’

গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভুল ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে চিহ্নিত করতে চেষ্টা করা হয়েছে, কিছু মিডিয়াতে যেসব তথ্য এসেছিল, তাতে কিছু ভুল তথ্য ছিল। অনেকে হয়তো বলেছেন, ভুল তথ্য ছিল। আমি তৃণমূলে গিয়ে অন্বেষণ করে দেখতে চাই আসলে কী ঘটেছিল।’

মাহবুব তালুকদার বলেন, খুলনা ও গাজীপুরের নির্বাচনে নিশ্চয় কিছু ভুলভ্রান্তি হয়েছে। কিছু কেন্দ্র বন্ধ করা হয়েছে। ভুলভ্রান্তির জন্যই কেন্দ্র বন্ধ করা হয়েছে। তাঁরা বলছেন না শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। নিশ্চয় কিছু অনিয়ম হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে মাহবুব তালুকদার বলেন, খুলনা ও গাজীপুরের নির্বাচনে কী ভুল ছিল, তা এই মুহূর্তে বলা যাবে না। গাজীপুরে ইসি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়দায়িত্ব চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, পুলিশ ইসির সহায়ক শক্তি। ইসির নিজস্ব জনবল নেই, ফলে পুলিশের ওপর ইসিকে নির্ভরশীল হতেই হয়।

মাহবুব তালুকদার বলেন, অতীতের ভুলভ্রান্তিগুলো চিহ্নিত করে ইসি ভবিষ্যতের পথ চলতে চায়। খুলনা ও গাজীপুরের বিভিন্ন ভুলভ্রান্তি চিহ্নিত করা হচ্ছে। যাতে আগামী তিন সিটি নির্বাচনে সেসব ভুল বা অনিয়মের পুনরাবৃত্তি না হয়। তিনি আশাবাদী যে ওই দুটি নির্বাচনের সঙ্গে পরবর্তী তিনটি সিটির নির্বাচনের তুলনা হবে না। পরবর্তী তিনটি নির্বাচন অবশ্যই সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে বলে তাঁরা আশাবাদী।

সবাইকে জানিয়ে দিতে নিউজটি অবশ্যই শেয়ার করুন