“কোটি কোটি মানুষ তারেককে বরণ করতে এয়ারপোর্টে আসবে”

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘যেদিন তারেক রহমান দেশে ফিরে আসবেন সেদিন কোটি মানুষ তাকে বরণ করতে এয়ারপোর্টে উপস্থিত হবে। আমাদের নেতা আমরা নির্বাচিত করেছি। তিনি যোগ্য নেতা বলেই তাকে আমরা নির্বাচিত করেছি। উনি (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে আলাপ করছেন তাকে (তারেক রহমানকে) দেশে ফিরিয়ে আনবেন।

এই ভয় আমাদের দেখাচ্ছেন কেন? দেশে যদি ফিরে আসতে হয়, উনি আসবেন। যেদিন উনি মনে করবেন দেশে ফিরে আসতে হবে সেদিন তিনি আসবেন। আর যেদিন উনি দেশে ফিরে আসবেন সেদিন দেখবেন, তার জনপ্রিয়তা কত এবং মানুষ তাকে কতো ভালোবাসে। সেদিন দেখবেন কোটি কোটি মানুষ তাকে বরণ করবার জন্য এয়ারপোর্টে গিয়ে হাজির হয়েছেন।’

বুধবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত এক স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘বিএনপি এত বড় রাজনৈতিক দল, সেই দলে কি এমন একজন নেতা নেই, যে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকেই নেতা করতে হবে’ প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘উনি (তারেক জিয়া) সাজাপ্রাপ্ত কিসে? আমাদের যিনি নেতা হয়েছেন, উনি আমাদের পার্টির কাউন্সিলের সিদ্ধান্তে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। আমাদের পার্টির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, দলের চেয়ারপারসনের অনুপস্থিতিতে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান দায়িত্ব নিবেন এটা আমাদের গঠনতন্ত্রে আছে।’

তিনি বলেন, ‘এখানে তো আপনাদের (আ.লীগের) বলার কিছু নেই। উনি (তারেক রহমান) সাজাপ্রাপ্ত কোন মামলায়? যে মামলার কোনো ভিত্তি নেই, যে মামলায় তিনি খালাস পেয়েছিলেন? এবং তাকে খালাস দেয়ার জন্য ওই বিচারকের দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে।’ খালেদা জিয়াকে জামিন না দেয়ায় সরকারের সমালোচনা করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘এরকম মামলায় আপিল করার সঙ্গে সঙ্গে জামিন হয়ে যায়। কিন্তু দেয়া হয়নি। অথচ আপনার (শেখ হাসিনা) ক্যাবিনেটে মন্ত্রী পরিষদে তিনজন সাজাপ্রাপ্ত মন্ত্রী রয়েছে। একজনের ১৩ বছরের সাজা হয়েছে।’

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আপনারা সমস্ত সাজাপ্রাপ্ত লোকদের নিয়ে মন্ত্রিসভায় বসিয়ে রেখেছেন। আপনাদের মামলাগুলো নিজেরা তুলে নিয়েছেন। একটাও মামলা রাখেননি, সব তুলে নিয়েছেন। সবার প্রতি সমান হবে, আপনারগুলোও থাকুক, অন্যান্যগুলোও থাকুক, দেখা যাক কী হয়। আর কোর্ট নিরপেক্ষ হোক।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি (এসকে সিনহা) একটা রায় দেয়ার অপরাধে দেশ থেকে বের করে দিলেন। বলা হলো, ওনার হাত নাকি অনেক লম্বা হয়ে গিয়েছে, যা যা বলার সব কথা বললেন তাকে। দেশ থেকে চলে যাওয়ার পর এখন দুর্নীতির মামলা দেয়া হচ্ছে। তখন কোথায় ছিলেন, যে কয়েকজনকে ডিঙিয়ে তাকে প্রধান বিচারপতি বানালেন? তখন সুবিধা ছিল যে, তিনি আপনাদের পক্ষে রায় দিচ্ছিলেন, তাই না? বিচার বিভাগকে শেষ করে দিচ্ছেন।

এবারও একজনকে ডিঙিয়ে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিয়েছেন। এই যদি করতে থাকেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কোথায়? নিম্ন আদালতের সমস্ত ক্ষমতা নিয়ে নিয়েছেন। আইন মন্ত্রণালয় ছাড়া কোনো বিচারপতির পোস্টিং, প্রোমোশনসহ কোনো কিছুই হবে না। আপনাদের আইন মন্ত্রণালয়ের একজন বিশেষ কর্মকর্তার নির্দেশ ছাড়া কারো বিচার এবং জামিনও হয় না। এইভাবে বিচার বিভাগকে, দেশের সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়েছেন।’

নির্বাচনের তফশিল অক্টোবর মাসে ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করবেন কখন? যখন জাতি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত থাকবে। আপনারা ভয়াবহভাবে রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছেন। এই দেশের মানুষ আপনাদের অধীনে নির্বাচন বিশ্বাস করে না।

আপনারা সরকারে থাকবেন আর নির্বাচন সুষ্ঠু হবে তা এই দেশের মানুষ বিশ্বাস করে না। বিশ্বাস করে না বলেই, শুধু আমরা না দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দল বলছে নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকার থাকা উচিৎ। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় নির্বাচন নিয়ে কেউ কোনো প্রশ্ন তোলেনি। সেই ব্যবস্থা আপনারা বাতিল করে দিলেন। আজকে কী হলো- ক্ষমতায় আসার পর থেকেই নির্বাচন প্রক্রিয়াকে পুরোপুরিভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা করছেন ফলে নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে না।’

বিএনপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক প্রয়াত নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টুর ৩য় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ স্মরণ সভার আয়োজন করে ‘নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টু স্মৃতি সংসদ’। সভায় অন্যদের মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, পিন্টুর স্ত্রী এবং বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নাসিমা আক্তার কল্পনা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

‘বিএনপিকে ছাড়া একতরফা নির্বাচন করতে চায় সরকার’
আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হারবে জেনে বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপিকে ছাড়া সরকার একতরফা নির্বাচন করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে ‘মেরুদণ্ডহীন’ উল্লেখ করে বলেন, ‘ইসির সুষ্ঠু নির্বাচন করার কোনো যোগ্যতাই নেই। তারা সরকারের ইচ্ছে পূরণে কাজ করছে।’

বুধবার (২ মে) সকাল বেলা শ্রমিক দলের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলটির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা জানানো শেষে ফখরুল এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা আগেও বলেছি বর্তমান নির্বাচন কমিশন সরকারের ইচ্ছে পূরণে কাজ করছে। তাদের দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না। উট পাখি যেমন ঝড় আসলে বালুর মধ্যে মাথা ঢুকিয়ে মনে করে, তাদের ঝড় আঘাত করবে না। এ ইসির অবস্থা তেমনই। তারা মনে করে নিরপেক্ষ নির্বাচন না করলে জনজোয়ার তাদের আঘাত করবে না।

তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সমাধান হওয়ার আগে তফসিল ঘোষণা কখনোই জনগণ মেনে নেবে না। সীমানা নির্ধারণের ক্ষেত্রেও একই বিষয় কাজ করছে। সরকার যে নির্দেশ দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন তাই বাস্তবায়ন করছে।

তিনি আরো বলেন, তাদের (ইসির) নিজস্ব কোনো চিন্তাভাবনা নেই। দেশের জনগণের সঙ্গে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সীমানা নির্ধারণের যে নিয়ম রয়েছে, সেটিও তারা পালন করছে না বলে মন্তব্য করেন এই নেতা।

বিএনপি মহাসচিব বর্তমান নির্বাচন কমিশন সরকারের সৃষ্টি আখ্যায়িত করে বলেন, সরকার নিজেদের ইচ্ছে পূরণে তাদের পছন্দ মতো লোক নির্বাচন কমিশনে বসিয়েছে। যাতে আবারো একতরফা ভোট করে ক্ষমতায় আসতে পারে। তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে আসা দরকার।

বিএনপি মহাসচিব এ সময় অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান সরকার সব সময় চেষ্টা করেছে দেশের প্রধান বিরোধী দলকে দূরে রেখে, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে বাইরে রেখে একতরফা নির্বাচনের। কেননা, আওয়ামী লীগ পুরোপুরি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তাদের জনগণের কাছে যাওয়ার আর জায়গা নেই। তারা নিশ্চিত জানে যে বিরোধী দল নির্বাচনে গেলে তাদের ভরাডুবি হবে সেজন্য একতরফা নির্বাচনের জন্যেই এ কমিশন গঠন করেছে। যাতে তাদের মাধ্যমে আবারো ক্ষমতায় আসতে পারে। কিন্তু তাদের এই আশা কখনো পূর্ণ হবে না। কারণ এটি কখনোই জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না আমরা আগেই এটা বলেছি।

মির্জা ফখরুল সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গ উল্লেখ্য করে বলেন, গাজীপুরের এসপি হারুনকে সরানোর জন্য আমরা চিঠি দিয়েছিলাম কিন্তু নির্বাচন কমিশন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। উল্টো আমাদের জোটের ৪৫ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে, এমনকি যিনি মেয়র পদে দাঁড়িয়েছিলেন তাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। এসব কারণে এ নির্বাচন সুষ্ঠু হবে এটি মনে করার কোনো কারণ আমি দেখছি না বলে মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা।

আওয়ামী লীগ রাজনীতিকে একটি ভয়াবহ অন্ধকার গহ্বরের দিকে নিয়ে যাচ্ছে অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্বাচন নিয়ে বিরোধী দলের সাথে কোনো আলোচনা না করে, জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা পাকাপোক্ত করতেই সরকারের এ প্রচেষ্টা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম খান নাসিমসহ শ্রমিক দলের নেতাকর্মীরা।