খালেদার মনোবল ‘অটুট’, বৃহত্তর আন্দোলনের নির্দেশ

খালেদা জিয়া অসুস্থ হলেও মনোবল চাঙা বলে মন্তব্য করে তার আইনজীবী আহমেদ আযম খান বলেছেন, ‘তিনি (খালেদা) গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে চলমান শান্তিপূর্ণ আন্দোলন আরও বেগবান করে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন।’

বুধবার (২০ জুন) বিকাল ৬টার কিছুক্ষণ আগে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে যান আহমেদ আযম খান। পরে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ইউনাইটেড হাসপাতালের পরিবর্তে অন্য হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার কথা বলে অযথাই বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন আইনজীবী আহমেদ আযম খান।

তিনি বলেন, ‘খালেদা আগে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। কাজেই ইউনাইটেড হাসপাতালের যে ডাক্তাররা আছেন, তারা উনার (খালেদা জিয়া) রোগ সম্পর্কে অনেকটা জানেন। সেখানে চিকিৎসা নেওয়া উনি (খালেদা জিয়া) কমফোর্ট (স্বাচ্ছন্দ) ফিল (বোধ) করেন বলেই উনি ইউনাইটেড হাসপাতালের কথা বলেছেন। অন্য হাসপাতালের কথা বলে, বা সিএমএইচের কথা বলে অযথাই বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে।’

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা প্রসঙ্গে আইনজীবী আযম খান বলেন, ‘উনার শরীর ভালো নয়। উনি অসুস্থ। আমি তো ডাক্তার নই। আমি খালি চোখেই দেখব এবং খালি চোখে যা দেখেছি উনি অসুস্থ।’

একইসঙ্গে আগামী ৩০ জুলাই অনুষ্ঠেয় রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে বিএনপিকে অংশ নিতেও বলেছেন তিনি। এক্ষেত্রে গাজীপুর সিটির নির্বাচন দেখে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সিনিয়র নেতাদের পরামর্শ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বলেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

এর আগে বুধবার বিকালে খালেদা জিয়ার সঙ্গে কারাগারে দেখা করেছেন তার চার স্বজন। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কেন্দ্রীয় কারাগারে যান খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার, তার স্ত্রী কানিজ ফাতেমা, ভাতিজা অভীক ও ভাগ্নে মামুন।

প্রায় সোয়া ঘণ্টা ভেতরে অবস্থানের পর বিকেল পৌনে ৬টার দিকে জেলগেট দিয়ে তারা বেরিয়ে আসেন। তবে এসময় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি তারা।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার পাঁচ বছর কারাদণ্ড হয়। একই সঙ্গে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারপারসন তারেক রহমানসহ অপর পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর পুরান ঢাকার পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারকে বিশেষ কারাগার ঘোষণা দিয়ে খালেদা জিয়াকে সেখানে রাখা হয়।

খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ দাবি করে তার দল বিএনপির পক্ষ থেকে বারবার রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসার কথা বলা হচ্ছে। সরকার খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল অথবা ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।