বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নোমান গ্রেফতার হওয়ার নেপথ্য

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। গাজীপুর সিটি করপোরেশনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে গিয়েছিলেন এই বিএনপি নেতা। রোববার বিকালে নোমানকে গ্রেপ্তারের পর এই সিটিতে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারের টঙ্গীর বাড়িও ঘিরে ফেলে পুলিশ।আগামী ১৫ মে অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচনের উপর হাই কোর্টের স্থগিতাদেশ আসার পর তার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে টঙ্গীতে হাসানের বাড়িতে বিএনপির সংবাদ সম্মেলনের কিছুক্ষণ পরই নোমানকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। তিনি তখন গাড়িতে করে ফিরছিলেন ঢাকায়।সাবেক মন্ত্রী নোমানের ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) নুরুল আজিম হীরু বলেন, ‘হাসান সরকারের বাসায় সংবাদ সম্মেলন শেষে বের হয়ে টঙ্গী পৌরসভার কাছে গেলে স্যারকে পুলিশ তুলে নিয়ে যায়।’টঙ্গী থানায় ফোন করা হলে দায়িত্বরত কর্মকর্তা এএসআই তানিয়া আক্তার সন্ধ্যায় বলেন, নোমানসহ ১৩ জনকে থানায় আনা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে এই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি এএসআই তানিয়া।রাত ৮টার দিকে গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল শেখ বিএনপি নেতা নোমানকে গ্রেপ্তারের খবর নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ‘রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, গাড়ি ভাংচুর, ও জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগে নোমানসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ কয়েকদিন আগেই আওয়ামী লীগের নেতারা অভিযোগ করেছিলেন, বিএনপি সারাদেশ থেকে সন্ত্রাসীদের গাজীপুরে জড়ো করছে।
বিএনপির এক ঝাঁক কেন্দ্রীয় নেতা গাজীপুরে দলের মেয়র প্রার্থী হাসান সরকারের পক্ষে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছিলেন।ভাইস চেয়ারম্যান নোমান ও বরকতউল্লাহ বুলু, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ বেশ কয়েকজন নেতা রোববারও প্রচার চালাচ্ছিলেন। তার মধ্যেই হাই কোর্টের স্থগিতাদেশ আসার পর নোমান প্রার্থী হাসান সরকারের বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন। বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, গাজীপুরে ভোট স্থগিতের পেছনে সরকারের ষড়যন্ত্র রয়েছে।এদিকে গাজীপুরে বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনী মিডিয়া সেলের প্রধান মাজহারুল আলম সন্ধ্যায় বলেন, ‘পুলিশ হাসান সরকারের বাড়ি ঘিরে রেখেছে।’ওই বাড়িতে হাসান সরকারের সঙ্গে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু, জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলনসহ বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা রয়েছেন। এই বিষয়ে পুলিশের কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।