রিটার্নিং কর্মকর্তার সামনেই ‘নৌকা, নৌকা…’ স্লোগান দিয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন

হকার্স লীগ ও ছাত্রলীগের অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে ঢুকে পড়েন। এর কিছু পর আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান মনোনয়নপত্র দাখিল করতে সেখানে যান। এ সময় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের বাধা উপেক্ষা করে দুই শতাধিক নেতা-কর্মী কার্যালয়ে ঢুকে পড়েন। কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়ও নেতা-কর্মীরা স্লোগান দিতে থাকেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আলীমুজ্জামান স্লোগান দেওয়া আচরণবিধির লঙ্ঘন বলে স্মরণ করিয়ে দেন। পরে কামরান নেতা-কর্মীদের থামতে বলেন। এ সময় রিটার্নিং কর্মকর্তার ঠিক পেছনেই ছিলেন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ মোর্শেদ আহমদ চৌধুরী।নির্বাচনী আচরণবিধির ২২ ধারা অনুযায়ী, সরকারি সুবিধাভোগী অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী নির্বাচন-পূর্ব সময়ে নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণায় বা নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না।

এ ব্যাপারে মোর্শেদ আহমদ চৌধুরী মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি সেখানে গিয়েছিলাম বিএমএর কেন্দ্রীয় সহসভাপতি হিসেবে।’ নির্বাচনী আচরণবিধিতে সরকারি কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ-সংক্রান্ত বিধিনিষেধের বিষয়টি জানালে পরক্ষণে তিনি বলেন, ‘আমি সেখানে গিয়েছিলাম ছেলের ভোটার আইডি কার্ড আনতে। ওই সময় আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করতে গেছেন। এ জন্য আমাকে দেখা গেছে।’

আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থীর ক্ষেত্রেও। বেলা তিনটার দিকে শতাধিক নেতা-কর্মী ও সমর্থক নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান সিলেট সিটি করপোরেশনের সদ্য সাবেক মেয়র ও বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। পুলিশ নেতা-কর্মীদের কার্যালয়ে ঢুকতে বাধা দেয়। এরপরও মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় তাঁর সঙ্গে অন্তত ১০ জন নেতা-কর্মী ছিলেন।

মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বদরউদ্দিন আহমদ কামরান ও আরিফুল হক চৌধুরী উভয়েই প্রায় অভিন্ন সুরে বলেছেন, তাঁরা দলের পাঁচজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে নিয়ে এসেছিলেন। বাকিরা হয়তো কোনো কাউন্সিলর প্রার্থীর পক্ষে সেখানে যান।
জানতে চাইলে সন্ধ্যায় রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আলীমুজ্জামান বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রার্থীদের সতর্ক করা হয়েছে। সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার থাকলে অবশ্যই নেওয়া হবে।

বিকেল সোয়া চারটার দিকে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে যান বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী বদরুজ্জামান সেলিম। তাঁর সঙ্গেও অন্তত ১০ জন নেতা-কর্মী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে ঢোকেন। তবে আচরণবিধি মেনেই মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন সিপিবি-বাসদ মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী আবু জাফর।

সরে দাঁড়ালেন খেলাফত মজলিসের প্রার্থী-সিলেট সিটি নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের মেয়র পদপ্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী দলটির মহানগর সাধারণ সম্পাদক কে এম আবদুল্লাহ আল মামুন। গতকাল বিকেলে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন। উৎস- প্রথম আলো