স্বৈরাচার শাসক নমরুদের পতন হয়েছিল যেভাবে–ঠিক সেভাবেই হাসিনার পতন হবে

কারাবন্দি শেখ হাসিনা স্কয়ারে চিকিৎসা নেন, খালেদাকে কেন নয়?

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কারাবন্দি অবস্থায় বেসরকারি স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। তাহলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কেন সেই সুযোগ দেয়া হচ্ছে না।

সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে এক প্রতিবাদ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা নিশ্চিতকরণ ও অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি’ শীর্ষক এই প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে গণতান্ত্রিক ফোরাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম খান বলেন, কয়েকদিন আগে কারা কর্তৃপক্ষ খালেদা জিয়াকে বেসরকারি কোনো হাসপাতালে চিকিৎসার সুপারিশ করেস্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে। কিন্তু কেউ তা আমলে নিচ্ছে না।তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার বিশেষ ধরনের এমআরআই করা দরকার, ফিজিওথেরাপি দরকার। সরকারি হাসপাতাল এবং কারাগারে সেটা সম্ভব নয়।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ এ নেতা বলেন, ‘আজকে যিনি সরকার প্রধান (শেখ হাসিনা) তিনি যখন কারাগারে আটক ছিলেন, তার চিকিৎসা স্কয়ার হাসপাতালে করানো হয়েছে। আওয়ামী লীগের বড় নেতারা দীর্ঘদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ (বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়) হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।’

এসময় তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে জেল কর্তৃপক্ষের সুপারিশ কেন বিবেচনা করা হচ্ছে না? কেন তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না?

নজরুল ইসলাম খান বলেন, অবিলম্বে খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার জন্য তাকে ইউনাটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হোক। এমনিতে দেরি হয়ে গেছে। আল্লাহ না করুন, চিকিৎসা বিলম্বিত হওয়ায় যদি উনার স্বাস্থ্যের কোনো ক্ষতি হয়, তাহলে জনগণ সরকারকে ক্ষমা করবে না।

খালেদা জিয়ার সঙ্গে কারাগারে দেখা করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের খুব কষ্ট হয়েছে, আমাদের নেত্রী খুব অসুস্থ। উনার পিঠে ও ঘাড়ে ব্যথা। হাত ও পা শক্ত হয়ে যায়। আর এগুলোর প্রচণ্ড ব্যথার কারণে তিনি ঘুমাতে পারেন না।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক প্রভাবশালী পত্রিকা গালফ নিউজের একটি জরিপের কথা উল্লেখ করে বিএনপির জ্যেষ্ঠ এ নেতা বলেন, ‘গালফ নিউজ বিশ্ব যুবনেতাদের নিয়ে যে জরিপ করেছে, সেখানে সবার শীর্ষে আছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। তার পরই আছেন তারেক রহমান। আমাদের দেশে আরেকজন যুবনেতা (সজীব ওয়াজেদ জয়) আছেন তার অবস্থান ২০তম।’

প্রতিবাদ সভার প্রধান আলোচক বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘আপনি (প্রধানমন্ত্রী) চান বা না চান একটা কথা আপনাকে বলি- এদেশের মানুষ গণতন্ত্র প্রিয়, তারা গণতন্ত্র খুব পছন্দ করে। গণতন্ত্রের জন্য এদেশের মানুষ লড়াই করেছে, যুদ্ধ করেছে। এই গণতন্ত্রকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ কিছু ভাবতে পারে না।’

তিনি বলেন, আগামী ডিসেম্বর অথবা জানুয়ারির মধ্যেই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে। বিএনপি এবং ২০-দলীয় জোট ক্ষমতায় যাবে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আবারও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন।

আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিকের সঞ্চালনায় এবং সভাপতি হাজী মোজাম্মেল হক মিন্টুর সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, প্রশিক্ষন বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মাদ রহমাতুল্লাহ, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলিম হোসেন, জিনাফের সভাপতি লায়ন মিয়া মো. আনোয়ার প্রমুখ।