বেপারোয়া চালকদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিৎ-এরশাদ।

বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর কারণে রাস্তায় মৃত্যু হলে চালেককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া উচিৎ বলে মনে করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ।তিনি বলেন, আমি যখন রাষ্ট্রপতি ছিলাম তখন সড়ক দুর্ঘটনার শাস্তির ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে একটি আইন পাস করেছিলাম। পরবর্তীতে আন্দোলনের মুখে সে আইনটি বাতিল করে যাবজ্জীবন করতে হয়েছে।

শুক্রবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর মহাখালীতে সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত কলেজ শিক্ষার্থী দিয়া খানম মিমের বাড়িতে শোকার্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন।

এরশাদ বলেন, যারা আন্দোলন করছে এরা সবাই নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নেমেছে। এদের কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। তারা আমাদের জন্যই রাস্তায় নেমেছে। নিজেদের কোনো দাবি নেই। আমার ছেলে আজ গাড়িতে করে স্কুলে যায়। যদি সে বাসে করে স্কুলে যেত তাহলে আমি সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকতাম যে, সে ফিরে আসবে কিনা। আর এমন কোনো খবর আমি পেলে আমি আত্মহত্যা করতাম। আমি মৃত ছেলের মুখ দেখতে চাই না। এ যে রাস্তায় যেসব বাস চলছে এগুলোর চারটি চাকা ছাড়া আর কিছুই নেই। ১৪ বছরের বাচ্চারা গাড়ি চালাচ্ছে। এই অনিয়ম আর কতদিন চলতে পারে। আমরা এ আন্দোলনকে সমর্থন করি। সরকারেরও দাবিগুলো মেনে নেওয়া উচিৎ।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ বলেন, সরকার চাইলে আরও বেশি টাকা দিতে পারতো। ২০ লাখ টাকা কোনো টাকাই না। প্রধানমন্ত্রী এসে দেখে যেতে পারতেন এরা কতটা কষ্টে একটি ঘরে কতগুলো মানুষ বসবাস করে। আর প্রধানমন্ত্রী যেখানে ২০ লাখ টাকা দিয়েছেন সেখানে আমরাইবা কত দিতে পারবো। তবে আমাদের এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে আমরা ওই পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেবো।

নৌমন্ত্রীর আচরণ দেখে কষ্ট পেয়েছি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে শিক্ষার্থীরা মারা গেছে। আর তা দেখে উনি হাসছেন। আর উনি উদাহরণ দিচ্ছেন ভারতের দুর্ঘটনায় ৩৩ জন মারা যাওয়ার বিষয়টিকে। কিন্তু সেটা তো দুর্ঘটনা। আর এখানে যা হয়েছে তা তো হত্যাকাণ্ড।

এর আগে, সকালে দিয়ার বাসায় আসেন ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের সিইও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জালাল গণি খান ও শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ নূর নাহার ইয়াসমিন। তারা কলেজের পক্ষে দিয়ার পরিবারের হাতে এক লাখ টাকার চেক তুলে দেন।

এদিকে সার্বিক পরিস্থিতির উপর মন্তব্য রেখে দিয়ার বাবা জাহাঙ্গীর ফকির বাংলানিউজকে জানান, আমি জানতে পেরেছি পরিবহন শ্রমিকরা গাবতলীতে জড়ো হচ্ছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করবে। কিন্তু আমি তাদের বলতে চাই, যেখানে পুলিশ ধৈর্য্য ধরে আছে সেখানে তোমরা কেন পারবে না। শিক্ষার্থীদের উপর চড়াও হওয়া যাবে না। তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করলে সারাদেশে অরাজকতা সৃষ্টি হবে। বরং তাদের বুঝিয়ে ঘরে পাঠিয়ে দেওয়া উচিৎ। আমি এক সন্তানকে হারিয়ে হাজারও সন্তান পেয়েছি। আর ছাত্ররা তোমরাও ঘরে ফিরে যাও। সরকার তোমাদের দাবি মেনে নিয়েছে।

এ সময় তিনি ফোন করে পরিবহন শ্রমিক নেতাদের অরাজকতা সৃষ্টি থেকে দূরে থাকতে অনুরোধ করেন।