ছাত্রলীগকে নিয়ে কটুক্তি করায় ইবি ছাত্রী ‘বহিষ্কার’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে নিয়ে আপত্তিকর স্ট্যাটাস দেওয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) এক ছাত্রীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বহিষ্কৃত ওই ছাত্রীর নাম মৌসুমী মৌ। সে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্রী।সোমবার (৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এস এম আব্দুল লতিফ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

এ দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে ওই ছাত্রীকে সাময়িক বহিষ্কার করে তার বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ। কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম আব্দুল লতিফ। এছাড়া ছাত্রলীগকে নিয়ে আপত্তিকর স্ট্যাটাস দেওয়ায় ওই ছাত্রীর বিরুদ্ধে মানহানি ও আইসিটি আইনে পৃথক পৃথক ভাবে দুটি মামলা করেছে ছাত্রলীগ।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, গতকাল রবিবার (৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্রী মৌসুমী আক্তার (মৌসুমী মৌ) তার ফেসবুক ওয়ালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে নিয়ে আপত্তিকর স্ট্যাটাস দেন। তিনি সেখানে বলেন, ‘নিষিদ্ধ পল্লিতে বেলুন দুর্ঘটনায় যাদের জন্ম তাদেরকে ছাত্রলীগ বলে।’ এই আপত্তিকর স্ট্যাটাসে তার শাস্তি দাবি করে বিভিন্ন মন্তব্য করেন অনেকে।

পরে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নজরে আসে। এই আপত্তিকর স্ট্যাটাসের প্রতিবাদে ওই ছাত্রীর বহিষ্কার চেয়ে উপাচার্য বরাবর লিখিত আবেদন করে তারা। আবেদনের প্রেক্ষিতে ওই ছাত্রীকে সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এইক সাথে বিষয়টি অনুসন্ধানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টাকে আহবায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আহসান উল আম্বিয়া ও সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক এস এম আব্দুর রহিম। কমিটিকে যথাশীঘ্র সম্ভব প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

সোমবার রেজিষ্ট্রার (ভারপ্রাপ্তা) এস এম আব্দুল লতিফ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্রী মৌসুমী মৌ তার ফেসবুক আইডিতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সম্পর্কে অত্যন্ত কুৎসিত আপত্তিকর স্ট্যাটাস দেওয়ায় ছাত্রলীগ তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে।

এই স্ট্যাটাস জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিজ হাতে গড়া অসম্প্রদায়িক মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এবং প্রগতিবাদী আদর্শে লালিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে কেবল অসম্মানিত করেনি বরং বঙ্গবন্ধুর আদর্শে আনুসারী সকলকে আহত করেছে। বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে নিউজিল্যন্ডে অবস্থিত উপাচার্যের সাথে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে মৌসুমী মৌকে সাময়িক ভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। এবং কেন তাকে চূড়ান্ত ভাবে বহিষ্কার করা হবে না ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তার কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

এই ঘটনায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহিনুর রহমান শাহিন বাদি হয়ে ওই ছাত্রীর বিরুদ্ধে মানহানি এবং আইসিটি আইনে পৃথক পৃথক দুটি মামলা করেছেন।এ বিষয়ে সভাপতি শাহিনুর রহমান শাহিন তিনি বলেন, ‘আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। যে বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন ছাত্রলীগকে নিয়ে এমন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে এদেশে তার থাকার কোন অধিকার নেই। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ওই ছাত্রীর স্থায়ী বহিষ্কার চাই।’

এ বিষয়ে ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ বলেন, ‘ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে মামলার জন্য আবেদন করা হয়েছে। আমরা সেটা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি। অনুমোদন আসলে আমরা আমাদের কার্যক্রম শুরু করে দিব।’এ বিষয়ে অভিযুক্ত মৌসুমী মৌ এর সাথে কয়েকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এ দিকে দেশের কোন একটি রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করার প্রেক্ষিতে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করাটাকে যৌক্তিযুক্ত বলে মনে করছেন না বিশ্ব বিদ্যালয়ের একটি অংশের শিক্ষকরা। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক বলেন, ‘কেউ যদি কোন সংগঠনকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে তাহলে তার বিরুদ্ধে মানহানি অথবা আইসিটি আইনে মামলা করা যেতে পারে।

এর কারণে কোন শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করার যৌক্তিকতা নেই। কারণ কোন সংগঠনকে বিরূপ মন্তব্য করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অধিকার সংশ্লিষ্ট বা এর আচরণ বিধিতে পড়ে না। এ রকম সিদ্ধান্ত নেয়াটা বিশ্ববিদ্যালয়ের মত একটি স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের নীতির পরিপন্থি।’

এছাড়া এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের শিক্ষক বশির আহমেদ তার ফেসবুক একাউন্টে এক পোস্ট করেন। তার পোষ্টটি হুবহু তুলে ধরা হল, ‘ছাত্রলীগকে নিয়ে কুৎসিত স্ট্যাটাস দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক ছাত্রীকে বহিষ্কার করেছে। হায় সেলুকাশ!!! কুৎসিত কাজ করতে পারবে, অথচ কেউ বলতে পারবে না।’ বিডি২৪লাইভ