‘আগামীতে আরো অশুভ ইঙ্গিত দেখতে পাচ্ছি’-বিবিসি

বাংলাদেশে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলার সময় গত তিন দিনে অন্তত ৪০ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যম কর্মী আহত হয়েছে।
বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহ করার দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের ওপর এসব হামলার ব্যাপারে সাংবাদিকদের সংগঠনগুলো কী পদক্ষেপ নিচ্ছে?
ঢাকায় দু’জন শিক্ষার্থী বাসের চাপায় নিহত হওয়ার পর গত ২৯ জুলাই থেকে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করতে থাকে।
নিরাপদ সড়ক, দোষীদের শাস্তিসহ নয় দফা দাবির আন্দোলন নিয়ে যখন তারা ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করছিল তখন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক মাঠ পর্যায়ে সে সব তথ্য সংগ্রহ করতে শুরু করেন।
কিন্তু এই দায়িত্ব পালনের সময় গত তিন দিনে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক দুই পক্ষের হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হন।

এদেরই একজন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ২৪-এর সিনিয়র সাংবাদিক ফয়সাল হোসেন।
শনিবার ধানমন্ডীতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর অফিসের সামনে লাইভ ব্রডকাস্টের সময় তিনি এবং চ্যানেলের ক্যামেরাপারসন কৃষ্ণ সরকার হামলার শিকার হন।
“লাইভ চলাকালীন সময় আমার ক্যামেরায় লাথি মারে একদল বহিরাগত। আমি এবং ক্যামেরাম্যান যখন ক্যামেরাটি বাঁচাতে যাই, তখন তারা আমার ওপর আক্রমণ করে। আমাকে ২০/২৫ জন মিলে একপাশে নিয়ে যায় এবং ক্যামেরাম্যানকে ৫০/৬০ জন মিলে মারধর করে। এর কিছু অংশ লাইভে চলে আসে। এটা যখন তারা বুঝতে পারে তখন তারা ক্যামেরার কেবল খুলে ফেলে এবং ক্যামেরাটি ভেঙ্গে ফেলে।”
মি. হোসেন জানান, তিনি মেরুদণ্ডে মারাত্মক আঘাত পেয়েছেন, ক্যামেরাপারসনকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।
ফয়সাল হোসেনের মত এমন আরো অন্তত ৪০ সাংবাদিক এবং গণমাধ্যম কর্মী আহত হয়েছেন বলে জানাচ্ছে গণমাধ্যমের অধিকার নিয়ে কাজ করে এমন একটি সংস্থা আর্টিকেল ১৯। আহতদের মধ্যে চারজন নারী সাংবাদিকও রয়েছে।

আর্টিকেল ১৯ বলছে, গত ৭২ ঘণ্টায় তারা ৪৩ জনের হিসেব পেয়েছেন এবং সরাসরি তাদের সাথে কথা বলেছেন।
এই প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক তাহমিনা রহমান বলছিলেন, এই পরিস্থিতি একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বাংলাদেশে সাংবাদিকদের বেশ কয়েকটি সংগঠন রয়েছে। কিন্তু সাংবাদিকদের উপর কোন হামলা হলে তা বিবৃতি কিংবা মানব বন্ধন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে। যখন ব্যাপক হারে হামলা হয় তখন তারা কেন কার্যকরী কোন পদক্ষেপ নেয় না?
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ সভাপতি সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা বলছিলেন সাংবাদিকদের ক্ষমতা সীমিত।
“আমরা প্রতিটা হত্যা, নির্যাতনের ঘটনায় প্রতিবাদ করেছি, সরকারের কাছে ধর্না দিয়েছি, অবস্থান ধর্মঘট করছি, অনশন পর্যন্ত করেছি বিচারের দাবীতে। কিন্তু এসব করেও দেখা যাচ্ছে বিচারে খুব একটা আগ্রহ হয় না,” বলছিলেন তিনি।

সাংবাদিকদের উপর নির্যাতনের প্রতিবাদে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে ৭২ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে দোষীদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবী জানানো হয়েছে।
এদিকে, জাতীয় দৈনিক ইত্তেফাকের সম্পাদক তাসমিমা হোসেন বলছিলেন, এসব ক্ষেত্রে নির্বাচন করে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নির্বাচন করে নির্বাচিত হন তাদেরকে সামনে এগিয়ে আসতে হবে।
“সবার যুক্তির বাইরে জিনিসটা চলে যাচ্ছে। নৈরাজ্যের দিকে চলে আসছে। আগামীতে আমি আরো অশুভ ইঙ্গিত দেখতে পাচ্ছি। যার একটা বিরাট উদাহরণ হল সাংবাদিকদের গায়ে হাত তোলা বিশেষ করে নারী সাংবাদিকদের গায়ে হাত তোলা।”
তিনি আরো বলছিলেন “এখন তো আরো করতে পারবে না, তিনজনের বেশি একসাথে জমায়েত হলেই অ্যারেষ্ট করবে। এখন সবাই সবার গা বাঁচিয়ে আছে। এখন দলাদলি করে এ মানব বন্ধন ডাকবে নাকি ও ডাকবে সেটাও তো আমাদের দোষ,তাই নয় কি? একতা আমাদের সবার ভেতরে আছে কিন্তু আমরা সাহস দেখাতে হয়তো ভুলে যাচ্ছি”।

বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য।
এদিকে আর্টিকেল ১৯ বলছে, এবছর বাক-স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের ঘটনা ২০১৭ সালকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।
সূত্র: বিবিসি