শহিদুল আলম রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক কাজ করেছেন: অ্যাটর্নি জেনারেল

তথ্যপ্রযুক্তি আইনে গ্রেফতার আলোকচিত্র শহিদুল আলমকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার মতো অবস্থা হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি বলেন, ‘নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের ডাকা আন্দোলন নিয়ে আলোকচিত্রী তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বক্তব্য দিয়ে রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক কাজ করেছেন।’ বুধবার (৮ আগস্ট) শহিদুল আলমকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দিতে হাইকোর্টের নির্দেশনা স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানিতে চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর আদালতে তিনি এই অভিযোগ করেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানির সময় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ ও অমিত তালুকদার। অন্যদিকে, রিটকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ইদ্রিসুর রহমান, শাহদীন মালিক ও সারা হোসেন।

শুনানির শুরুতে আদালত অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের কাছে তার আবেদন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শহিদুল আলমকে হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে হাইকোর্টের আদেশ যথাযথ হয়নি। হাসপাতালে নেওয়ার মতো অবস্থা হয়নি তার। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বক্তব্য দিয়ে রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক কাজ করেছেন। তাই হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চাই।’

এ সময় শহিদুল আলমের আইনজীবী ইদ্রিসুর রহমান বলেন, ‘হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চান? হাইকোর্টের আদেশ তো ইতোমধ্যে বাস্তাবায়ন করা হয়েছে, তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় স্থগিত চেয়ে কী হবে?’ এরপর উভয়পক্ষের শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শহিদুল আলমকে দেওয়া হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত না করে এ বিষয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে বৃহস্পতিবার (৯ আগস্ট) শুনানির দিন ধার্য করেন চেম্বার বিচারপতি।

এরআগে বুধবার (৮ আগস্ট) চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর আদালতে শহিদুল আলমকে হাসপাতালে ভর্তির সংক্রান্ত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। প্রসঙ্গত, গত ৭ আগস্ট এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে শহিদুল আলমকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসার নির্দেশ দেন বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।

ওই দিন সকালে শহিদুল আলমকে বিচারিক আদালতের দেওয়া ৭ দিনের রিমান্ড চ্যালেঞ্জ করে ও তার সুচিকিৎসার নির্দেশনা চেয়ে তার স্ত্রী রেহনুমা আহমেদ হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। রিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ডিআইজি (ডিবি) ও রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বিবাদী করা হয়। সেই রিটের শুনানি নিয়ে আদালত শহিদুল আলমকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

উল্লেখ্য, দৃক গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা শহিদুল আলম চলমান ছাত্র আন্দোলন নিয়ে সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেন। ওই ঘটনায় রমনা থানার তথ্যপ্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলায় তাকে ৫ আগস্ট গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। এরপর গত ৬ আগস্ট ডিবি (উত্তর) পরিদর্শক মেহেদী হাসান বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের (পরিদর্শক) আরমান আলী। উৎসঃ banglatribune