ফের রাস্তায় জাবালে নূরের লক্কড় ঝক্কড় বাস (ভিডিও)

ফের যাত্রী পরিবহন শুরু করেছে জাবালে নূর পরিবহন। ২৯ জুলাই দুই শিক্ষার্থীকে চাপা দেওয়ার ঘটনার ১০ দিন পর বুধবার মিরপুর-বিমানবন্দর সড়কে চলতে দেখা গেছে এই কোম্পানির কিছু বাসকে। তবে এই রুটে অন্যান্য পরিবহন সংস্থার বাসগুলোর তুলনায় জাবালে নূরের বাসে কম যাত্রী উঠতে দেখা গেছে।
গত ২৯ জুলাই একই কোম্পানির একাধিক বাসের সঙ্গে যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলায় জাবালে নূরের একটি বাসের চাপায় শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। আহত হয় আরও ১০ থেকে ১২ শিক্ষার্থী। এ ঘটনার প্রতিবাদে ওইদিনই রাস্তায় নামে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। দুই শিক্ষার্থীকে বাসচাপায় ‘হত্যার’ বিচারসহ নিরাপদ সড়কের জন্য ৯ দফা দাবিতে চলে টানা আন্দোলন। এসময় শিক্ষার্থীদের হত্যার জন্য দায়ী জাবালে নূর পরিবহন রিমিটেডের রুট পারমিট বাতিলেরও দাবি তোলে শিক্ষার্থীরা।
এদিকে, দুর্ঘটনার জন্য দায়ী জাবালে নূর পরিবহনের তিনটি বাসের চালক মাসুম বিল্লাহ, যুবায়ের ও সোহাগকে এবং দুজন চালকের সহকারী ( হেলপার) রিপন ও এনায়েতকে গ্রেফতার করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গ্রেফতার হন বাসটির মালিক শাহাদাত হোসেনও। এরপর র‌্যাবের কাছে স্বীকারোক্তিতে বাসচালক মাসুম বিল্লাহ জানান, তার বড় গাড়ি চালানোর লাইসেন্স ছিল না। হালকা যান প্রাইভেটকার ও ছোট মাইক্রোবাস চালনার জন্য লাইসেন্স নিয়ে তিনি বাস চালিয়ে আসছিলেন।
এদিকে, এ ঘটনায় ১ আগস্ট জাবালে নূর পরিবহনের দুটি বাসের নিবন্ধন ও ফিটনেস সনদ বাতিল করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।
দুটি রুটে যাত্রী পরিবহন করে জাবালে নূর পরিবহন লিমিটেড। একটি রুটে আগারগাঁও হতে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত অন্য রুটে মিরপুর-১ এর আনসারক্যাম্প হতে বাড্ডা নতুন বাজার পর্যন্ত যাত্রী পরিবহন করে। বুধবার জাবালে নূরের বাস রাস্তায় নামলেও সংখ্যায় ছিল কম। অন্যদিকে, বাসটির বেশির ভাগ বাস এখনও বিভিন্ন স্থানে রেখে দেওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জাবালে নূর পরিবহন লিমিটেডের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমাদের কোম্পানির দুটি রুটের চলাচলের জন্য ৬০টি বাস আছে। তবে অনেক বাস আন্দোলনের সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যেগুলো ঠিক আছে, সেগুলো রাস্তায় নামছে।
খোঁজ নিয়ে জাবালে নূরের অনেক বাস রাজধানীর আগারগাঁও ও মিরপুরে রাস্তার পাশে দেখা গেছে। তবে বেশি বাস রয়েছে আগারগাঁওয়ে। কমপক্ষে ২০টি বাস রাস্তা পাশে দেখা গেছে সেখানে। বাসগুলোর কাছে জাবালে নূর পরিবহন লিমিটেডের কোনও কর্মকর্তাদের দেখা যায়নি। তবে বেশ কয়েকজন শ্রমিককে দেখা যায় সেখানে। এছাড়া, মিরপুরে চিড়িয়াখানা রোডে জাবালে নূরের বেশ কিছু বাসের মেরামত ও রঙ পরিবর্তন করতে দেখা গেছে।
এ ব্যাপারে জাবালে নূর পরিবহন লিমিটেডের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বলেন, অনেক বাস আন্দোলনের সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া যেসব সব গাড়ির কাগজপত্র ঠিক নেই সেগুলোও নামছে না। কাগজপত্র ও বাকি বাসগুলো ঠিক করে রাস্তায় নামাতে এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
জাকির হোসেন বলেন, বাসের রুট পারমিট জাবালে নূরের অধীনে। কোনও বাস রঙ পরিবর্তন করে অন্য ব্যানারে যাচ্ছে কী না আমার জানা নেই।
এ বিষয়ে বিআরটিএ’র সচিব মোহাম্মদ শওকত আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, জাবালে নূর একটি সংস্থা, তাদের দুটি গাড়ির রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়েছে দুর্ঘটনার কারণে। কিন্তু অন্য বাসগুলো রাস্তায় চলতে আইনগত বাধা নেই।
এদিকে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৯ আগস্ট) থেকে রাজধানীর প্রতিটি বাস টার্মিনালে ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও চালকের লাইসেন্স পরিদর্শনে নামবেন বাস মালিকরা। বুধবার (৮ আগস্ট) ঢাকাভিত্তিক পরিবহন মালিকদের সংগঠন ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি এ ঘোষণা দিয়েছে।