হটাৎ করেই যে কারনে থমকে আছে আ.লীগের প্রচারণা!

বিএনপি নির্বাচনে আসবে এমনটা ধরে নিয়েই আগামী জাতীয় নির্বাচনের ছক সাজাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সংক্ষিপ্ত মন্ত্রিসভা নিয়ে দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছে।

দলটির নীতিনির্ধারকরা চাইছেন, আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করার জন্য। ইতোমধ্যে দলের শীর্ষ নেতারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে দেনদরবার করছেন। বাম-ডান সব পক্ষের সমর্থনই চাইছে আওয়ামী লীগ। ২০১৪-এর বিতর্কিত জাতীয় নির্বাচনের পর সমালোচনার মুখে থাকা ক্ষমতাসীন দলটি এবার সতর্ক ও কৌশলী।

এ জন্য বেশ আগেভাগেই নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রস্তুতি শুরু করে দলটি। দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা বিভিন্ন জেলা সফরে গিয়ে নৌকার জন্য ভোটও চেয়েছেন। দলের অন্যান্য নেতারা নির্বাচন নিয়েই গত কয়েকমাস কথা বলেছেন। সিটি করপোরেশন নির্বাচনকেও জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতিক্ষেত্র হিসাবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয় দলটির নেতাকর্মীরা। তবে সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনে অনেকটাই থমকে গেছে আ’লীগের নির্বাচনী প্রস্তুতি।

সম্প্রতি আওয়ামী লীগ ও ক্ষমতাসীন ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম জানিয়েছেন, বিএনপি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে- এটা ধরে নিয়েই আওয়ামী লীগ জোটগতভাবে ভোটের
লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি বলেন, বিএনপির উচিত হবে কোনো ধরনের শর্ত না দিয়ে এখন থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা।

আমরাও আমাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। আওয়ামী লীগ যে কোনো সময়ে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। নির্বাচন ছাড়া কোনো রাজনৈতিক দল টিকে থাকতে পারে না মন্তব্য করে নাসিম বলেছেন, দলের স্বার্থেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ অপরিহার্য। বিএনপি জনগণের ওপর আস্থা না রাখলে আরেকটি বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।

নির্বাচনকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন বিশেষ করে প্রতিবেশী ভারতের সমর্থনকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। গত মার্চ মাসেই ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের ২০ সদস্যের এক প্রতিনিধিদল ভারত সফর সম্পন্ন করে এসেছেন। সে দেশের ক্ষমতাসীন বিজেপির আমন্ত্রণে আওয়ামী লীগ নেতারা এ সফরে যান। সেখানে জাতীয় নির্বাচনে ভারতের করণীয়, বাংলাদেশের প্রত্যাশা ইত্যাদি বিষয়ে কথা হয় বলে জানিয়েছে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সূত্র।

তবে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী তোড়জোড় গত কয়েক দিনে কিছুটা ভাটা পড়েছে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক আন্দোলন ভাবিয়ে তুলেছে ক্ষমতাসীনদের। ওই আন্দোলনে টানা সাতদিনের অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়।

শিশু-কিশোরদের অভূতপূর্ব জাগরণকে ব্যবহার করে বিএনপি-জামায়াতের লোকজন সেটাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছে বলে মনে করছে তারা। এ আন্দোলন নিয়ন্ত্রণ করতে বলপ্রয়োগের পথ নেওয়ায় দেশে বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার মুখেও পড়তে হয় তাদের। এ জন্য সিটি নির্বাচনের পর জাতীয় নির্বাচনের প্রচারণায় স্থবিরতা দেখা দিয়েছে দলটিতে।