ছাত্রলীগ – ছাত্র রাজনীতির কলংকিত এক অধ্যায়-মোঃ জুমান হোসেন

বিভিন্ন অপকর্মের মাধ্যমে প্রতিনিদই সংবাদপত্রের শিরোনাম হচ্ছে একসময়ের ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, জমি দখল ও ধর্ষণসহ এমন কোনো অপকর্ম নেই যা তারা করছে না। এসব অপকর্মের মাধ্যমে বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসকে ছাত্রলীগ কলঙ্কিত করছে বলে রাজনীতিক বিশ্লেষক ও অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের নেতারা মনে করছেন।তাদের মতে, ছাত্র রাজনীতির মূলধারা থেকে ছাত্রলীগ এখন সম্পূর্ণ বের হয়ে পড়েছে। ছাত্র সমাজের কল্যাণের চেয়ে তারা এখন নিজেদের আখের গোছানোর কাজেই বেশি ব্যস্ত।জানা গেছে, অতীতে যারা এই ছাত্রসংগঠনটির সঙ্গে জড়িত ছিলেন তারা আজ সবাই বর্তমান ছাত্র লীগের কর্মকাণ্ডের ওপর চরমভাবে ক্ষিপ্ত।

ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের এসব অপকর্ম দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে। বিশেষ করে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা খুন, হত্যা, ধর্ষণ, মারামারি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। দিন দিন তারা বেপরোয়া হয়ে উঠতে থাকে। প্রতিপক্ষ ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা হল ও ক্যাম্পাস ছাড়ার পর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তখন নিজেরাই মারামারি শুরু করে।

সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রলীগের অব্যাহত অভ্যন্তরীন কোন্দল, হামলা, চাঁদাবাজী ও সন্ত্রাসের কারণে শিক্ষা ব্যবস্থা হুমকির মুখে। জাতির ভবিষ্যৎ গড়ার স্থান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে তারা মাদক ও অস্ত্রের গোডাউনে পরিণত করেছে। নিজেদের ও প্রতিপক্ষ ছাত্রদের রক্তে বার বার ক্যাম্পাসগুলোকে রক্তাক্ত করছে। সম্মানিত শিক্ষকরা পর্যন্ত তাদের হাতে নির্যাতনের হচ্ছে। এসব ঘটনা নতুন কিছু নয়। ছাত্র রাজনীতির ইতিহাসকে বারবার কলঙ্কিত করেছে তারা। জবি’তে ধর্ষণের সেঞ্চুরি ও এমসি কলেজের ছাত্রাবাস পুঁড়িয়ে উল্লাস করে ছাত্র রাজনীতির ইতিহাসে কলঙ্কজনক অধ্যায় সৃষ্টি করেছে ছাত্রলীগই। একই ভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরেও সমানভাবে চলছে তাদের অব্যাহত তান্ডব। ছাত্র-শিক্ষকের রক্ত ঝড়ানো, খুন, ধর্ষণ, দখল, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, কোন্দল ও সন্ত্রাস দিয়ে ছাত্রলীগের ইতিহাস পরিপূর্ণ। যা জনগণ বছরের পর বছর দেখে আসছে। অথচ এসব সন্ত্রাসের জন্য কোনো দৃষ্টান্তমূলক বিচার জাতি দেখেনি। ফলে বর্তমানে ছাত্রলীগের নৃশংসতার মাত্রা আরো বেড়ে গেছে।