নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে সরকার বিএনপি-জামায়াত নিয়ে কল্পকাহিনী সাজাচ্ছে

বিএনপির সঙ্গে জামায়তের কোনো দূরত্ব তৈরি হয়নি। ভবিষ্যতে এই সম্ভাবনাও নেই। বরং সরকার নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে বিএনপি-জামায়াত নিয়ে নানা কল্পকাহিনী সাজাচ্ছে। দল দুটির নেতারা মনে করেন বিএনপি-জামায়াত সর্ম্পক মিডিয়ার সৃষ্টি। সামনে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের কোনো দূরত্ব সৃষ্টি হয়নি, হবেও না, সম্ভাবনা নাই। জামায়াত যখন বিএনপির সঙ্গে নির্বাচন করে তখন তাদের আসন সংখ্যা বেড়েছে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে নির্বাচন করেছে তখন তাদের আসন সংখ্যা কমেছে। বিএনপি ও জামায়াতের একাািধক নেতা এসব কথা জানান।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বিএনপির সঙ্গে জামায়াত বা ২০ দলীয় জোটের কোনো সমস্যা নেই। এটা মিডিয়ার সৃষ্টি। এত বড় দলে নেতাকর্মীদের নানা মত থাকতেই পারে।

আর বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহাজাহান বলেন, সিলেটে জামায়াত তাদের মত ভোট করেছে আমরা আমাদের মত ভোট করেছি। আসলে জামায়াত এখানে ঘটনা না। আমরা মনে করি দেশের যে সংকট তৈরি হয়েছে এধরণের সংকট মোকাবেলা করার জন্য জাতীয় ঐক্য দরকার। যারা গণতন্ত্রে বিশ^াস করে তাদের সঙে জাতীয় ঐক্য দরকার। যারা স্বৈরাচরি শাসনের বিরোধীতা করে,গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে চায়, গণতন্ত্রকে সুচারু রূপে পেতে চ্য়া তাদেরকে নিয়ে ঐক্য হবে।

তিনি বলেন, জামায়াত রাজনৈতিক দল হিসেবে নিজস্ব চিন্তা ভাবনা রয়েছে। তারা তো এখন নিবন্ধিত দলও না। তারা তাদের অবস্থান থেকে, তাদের স্বাধীনতা থেকে তাদের অবশ্যই অধিকার আছে। তারা যদি মনে করে দেশের প্রয়োজনে একটা পরিবর্তন দরকার তাহলে তারা সেভাবেই তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে। আর তারা যদি তা মনে না করে তাহলে তাদেরকে তো আমরা জোর করে মনে করিয়ে দিতে পারব না। জামায়াতের সঙ্গে আমাদের যে ঐক্যটা গড়ে উঠেছিলো তা হলো নির্বাচন কেন্দ্রীক। বিএনপির পক্ষ থেকে সেই ঐক্য নষ্ট হোক সেট্ াআমরা চাই না।

দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল মনে করেন, বিএনপি জামায়াতের সর্ম্পক নিয়ে মনগড়া নিউজ হচ্ছে। কারণ একটা বিষয় নিয়ে যার যার দৃষ্টি থেকে রির্পোট করে। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ১০ বছর ক্ষমতায় থেকে তাদের কিছু অনুগত ভক্ত রির্পোটার নেতাকর্মী তৈরি করেছে। তারা তো দেশের অনেক বড় বড় হাজারও সমস্যা বাদ দিয়ে বিএনপি জামায়াতের সর্ম্পক নিয়ে উঠে পড়ে লেগেছে।

তিনি বলেন, আমরা বক্তব্য এখানে পরিস্কার মানুষের আসল সমস্যা থেকে এই সরকারের অত্যাচার নির্যাতন, লুটপাট, দুঃশাসন সবকিছু থেকে দৃষ্টি ফেরানোর জন্য বারবার এই প্রসঙ্গটাকে সামনে নিয়ে আসা হচ্ছে। জামায়াত তো দীর্ঘকাল আওয়ামী লীগের সখ্যতায় কাটিয়েছে। সর্বশেষ সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও জামায়াতের প্রার্থীকে অর্থ এবং সবরকমের আইনী সহাযতা দিয়ে সাহায্য করেছে বর্তমান সরকার। যেটা এদেশের সকল নিরপেক্ষ গণমাধ্যম স্বাক্ষী।
আলাল বলেন, সিলেটে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় কোথাও জামায়াতকে এ মিনিটের জন্য বাধা দেওয়া হয়নি। গ্রেফতার তো পরের কথা। বরং উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। তাদের নেতাদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছে। সেই ক্ষেত্রে বিএনপির বক্তব্য অত্যন্ত পরিস্কার গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনা তা বাস্তবায়নের জন্য মানুষ যে উন্মুখ হয়ে আছে।

তিনি বলেন, এই দাবির প্রতি জামায়াত যদি একত্ব থাকে তাহলে জামায়াতের সঙ্গে আমাদের দূরুত্ব তৈরি হওয়ার কোনো কারণ নেই। আর জামায়াত যদি এই দাবির প্রতি একত্ব বা দরদি না থাকে সেক্ষেত্রে যারা দরদি আছে তাদের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্ব হবে। তবে জামায়াতকে নিয়ে আমরা কিন্তু দুশচিন্তাগ্রস্থ না। তারা আমাদের সঙ্গে থাকলে বিএনপি বড় লাভবান হবে, ওরা চলে গেলে আমরা কি ক্ষতিগ্রস্থ হবো। এটার প্রমাণ অতিতের পরিসংখ্যান বলে। কারণ ৯০ পরবর্তীত জামায়াত যখন বিএনপির সঙ্গে নির্বাচন করে তখন তাদের আসন সংখ্যা বেড়েছে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে নির্বাচন করেছে তখন তাদের আসন সংখ্যা কমেছে।

জামায়াত নেতা মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, পত্র পত্রিকায় যে সমস্ত খবর প্রকাশিত হচ্ছে এটার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। বাস্তবে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের সর্ম্পকের কোনো অবনতি ঘটেনি। সর্ম্পক আগে যেমন ছিলো এখনও ঠিক সেরকমই আছে। দ্বিতীয়ত : যে উদ্দেশ্যে ঐক্য করা হয়েছিলো সেই উদ্দেশ্যে এখনও সফল হয়নি। ঐক্যই হয়েছিলো জাতীয় নির্বাচন, একসঙ্গে আন্দোলন, এক সাথে সরকার গঠন ও এক সাথে নির্বাচন। সুতরাং এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ২০দলীয় জোট সম্প্রসারিত হয়েছে। ৪ দল থেকে ২০ দল হয়েছে। সামনে ইলেকশন বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের কোনো দূরত্ব সৃষ্টি হয়নি, হবেও না, সম্ভাবনা নাই।