পাগলও বিশ্বাস করবে না পুলিশের সামনে বিএনপি-জামায়াতকর্মীরা ছাত্রদের মারপিট করেছে: ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দাবি করেছেন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে আক্রমণ নাকি বিএনপি-জামায়াত কর্মীরা করেছে। দেশে এমন কোনও পাগলও নেই যে তারা বিশ্বাস করবে পুলিশের সহায়তায় এবং তাদের সামনে বিএনপি-জামায়ত কর্মীরা আগ্নেয়াস্ত্র, লাঠিসোঁটা নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের মারপিট করবে, দায়িত্বপালনরত সাংবাদিকদের কোপাবে এবং ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ অফিস আক্রমণ করবে, আর তাদের গ্রেফতার করা হবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সহিংস কোনও কর্মকাণ্ডে বিএনপি কখনও জড়িত ছিল না। যারা পুলিশের সামনে হেলমেট ও মুখোশ পরে সহিংসতা করে, সাংবাদিকসহ আন্দোলনকারীদের ওপর নির্মম হামলা চালিয়েছে, তারা আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী। আওয়ামী লীগের সেই সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে চিহ্নিত ও গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনারও জোর দাবি জানাচ্ছি।’ শুক্রবার (১০ আগস্ট) সকালে নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন দাবি করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকারি দলের সিদ্ধান্তেই ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগের নেতকর্মীরা পুলিশের ছত্রছায়ায় হেলমেট ও মুখোশ পরে অগ্নেয়াস্ত্র, লাঠি, রামদা ইত্যাদি নিয়ে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের ওপর অমানবিক ও বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে ঢুকে ছাত্রছাত্রীদের মারপিট করেছে। দলবদ্ধভাবে বিভিন্ন হোস্টেলে ও আবাসস্থলে গিয়ে ছাত্রদের মারপিট করে পুলিশে হস্তান্তর করেছে। এই সবকিছুই ঘটেছে পুলিশের চোখের সামনে এবং তাদের সহযোগিতায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘হেলমেট পরা ও মুখোশধারী আক্রমণকারীরা ছাত্রলীগ-যুবলীগকর্মী ছিল এটা আহত সব সাংবাদিক এবং ছাত্রছাত্রীরা বলার পরেও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাদের বিচার করার জন্য নাম চান। এমন বাজে রসিকতায় তিনি আনন্দ পেতে পারেন, কিন্তু দেশবাসী লজ্জিত হয়।’

আওয়ামী লীগ পুলিশ নিয়ন্ত্রণ করে- দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘সেই পুলিশ তাদেরই নির্দেশে হেলমেট ও মুখোশধারীদের মানুষ কোপানোর এবং অতঃপর নির্বিঘ্নে সরে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছে। এরপরও হামলায় আহতদের কাছে নাম চাওয়া একটা নোংরা রসিকতা ছাড়া আর কিছু হতে পারে না। বলা বাহুল্য, সাংবাদিক ও টিভি চ্যানেলগুলোর ওপরে কড়া নিয়ন্ত্রণ রাখার পরও এই সত্যগুলো টিভি ক্যামেরার চোখ এড়িয়ে যায়নি এবং তা জনসমক্ষে প্রকাশ পেয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘পত্রিকায় আক্রমণকারীদের অনেকেরই ছবি ছাপা হয়েছে এবং স্যোশাল মিডিয়ায় আক্রমণকারীদের ছবির ছড়াছড়ি থাকার পরেও অপরাধীদের গ্রেফতারের জন্য ওবায়দুল কাদের কেন ছবি ও নাম চান? কেন সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তথ্যমন্ত্রীর চিঠি পাঠাতে হয়? কি বিচিত্র এই দেশ! আর বিচিত্র বলেই তারা অপরাধ করে তার দায় চাপানোর চেষ্টা করছে আমাদের ওপর।’

বিএনপিকে আক্রমণকারী হিসেবে চিহ্নিত করতে সরকারি অপচেষ্টার অংশ হিসেবে দৈনিক জনকণ্ঠে তিন বছর আগের একটি ছবি ছাপিয়ে জনমত বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে বলেও উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘তবে এর জন্য পত্রিকাটি ইতোমধ্যেই দুঃখ প্রকাশ করেছে। কিন্তু এতে সরকার ও তার সমর্থকদের থলের বিড়াল বেরিয়ে গেছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলনের প্রতি প্রকাশ্যেই সমর্থন জানিয়েছি। এটা অপরাধ হলে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে পুলিশ কর্মকর্তারা পর্যন্ত একই অপরাধে অভিযুক্ত হওয়ার কথা। কিন্তু যে সরকার ভোট ছাড়া নিজেরাই নিজেদের নির্বাচিত ঘোষণা করে জোর করে রাষ্ট্র চালাতে লজ্জাবোধ করে না, তাদের কাছ থেকে পক্ষপাতমূলক বক্তব্য ও আচরণ ছাড়া আর কী আশা করা যেতে পারে।’ মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া বার্নিকাটের গাড়িতে হামলা এবং সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের বাড়ি আক্রমণ ও ভাঙচুরের জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘এই হামলাকারী আওয়ামী গুন্ডাদের এখনও গ্রেফতার না করায় তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’

মন্ত্রিসভায় সড়ক পরিবহন আইনের যে সংশোধনি অনুমদন করেছে তা ইতোমধ্যেই পরিবহন মালিক সমিতি ছাড়া সবাই প্রত্যাখ্যান করেছে বলেও দাবি মির্জা ফখরুলের। তিনি বলেন, ‘সংশোধিত এই আইনে ছাত্রছাত্রীদের দাবিকৃত নিরাপদ সড়ক অর্জিত হবে না। কারণ এই আইনে সড়কে মানুষ হত্যা ও অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়ানোর স্পষ্ট দিকনির্দেশনা কিংবা কঠোর শাস্তির বিধান নেই।’

‘শুধু চালকের অপরাধে দুর্ঘটনা ঘটে না’ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘চালক নিয়োগ, গাড়ির ফিটনেস যথাযথ করা, চালকদের বেতন, অবসর, শারীরিক সুস্থতা ইত্যাদি দেখার দায়িত্ব যে মালিকদের তাদের বিরুদ্ধে আইনে কার্যকর পদক্ষেপ এবং বিআরটিএ এর অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি দমনের কোনও বিধান রাখেনি। দুর্ঘটনায় মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড বলা হবে কি না এটা নির্ধারণের দায়িত্বে নিরপেক্ষ যোগ্য, সংশ্লিষ্ট কাউকে রাখা হয়নি। এ ব্যাপারে হাইকোর্টের মতামতেরও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।’

আন্দোলনে যুক্ত ছাত্রছাত্রী ও সাংবাদিক এবং এ বিষয়ে সরকারবিরোধী বক্তব্য দেওয়ার জন্য যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘আহতদের সুচিকিৎসা এবং মিথ্যা ও নিপীড়নমূলক সব মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।’