জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সিইসির চাঞ্চল্যকর মন্তব্য: রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা

বাংলাদেশে রাজনৈতিক অবস্থা ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দিন যতই ঘনিয়ে আসছে নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপও ততই বাড়ছে। এ অবস্থায়, জাতীয় নির্বাচনে অনিয়ম হবে না তার নিশ্চয়তা দেয়া যায় না- বলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা সম্প্রতি যে মন্তব্য করেছেন- তাতে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক নতুন মাত্রা লাভ করেছে।

এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বলেছেন, “আমাদের দেশের বাস্তবতায় সিইসি হয়তো মনে করেছেন- এটাই সত্যি। কিন্তু তার বক্তব্যে আরও সংযত হওয়া দরকার, একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে মূল দায়িত্বে তিনি আছেন। কথাবার্তা অবশ্য তিনি ভালোই বলেন, তবে স্লিপ হতেই পারে। আমি আশা করি তিনি ভবিষ্যতে এ ধরনের বক্তব্য দেবেন না।”

গত বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা নির্বাচন কমিশনে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের কাছে এ বিতর্কিত মন্তব্য করেন। সিইসির বক্তব্যে ইতোমধ্যে খোদ নির্বাচন কমিশনের মধ্যেও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পাঁচ সিটি নির্বাচনের পর এমনিতেই কমিশনের প্রতি জনগণের অনাস্থা বাড়ছিল। এখন কমিশনের চারজন সহকর্মীই এক ধরনের অনাস্থা জানালেন সিইসির প্রতি।

নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম এবং শাহাদাত হোসেন চৌধুরী একযোগে সিইসির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি একটি নজিরবিহীন ঘটনা। অতীতে নানা ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনে বিভক্তি দেখা গেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে তার মীমাংসাও হয়েছে। কিন্তু প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কোনো একটি বক্তব্যের সঙ্গে অন্য কমিশনারদের দ্বিমত পোষণ করা একেবারেই নজিরবিহীন।

নির্বাচন কমিশনের সদস্য মাহবুব তালুকদার বলেছেন, এই ধরনের বক্তব্য আগামী জাতীয় নির্বাচনে যারা অনিয়ম করতে চায় তাদের উস্কে দেবে। অপর সদস্য শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেছেন, সংবিধানের আলোকে ভালো নিরপেক্ষ নির্বাচন করার জন্য আমি শপথ নিয়েছি। আমি সেটাই ধারণ করি।

এ প্রসঙ্গে, নির্বাচন কমিশনের একজন সাবেক সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন রেডিও তেহরানকে বলেন, প্রধান নির্বচন কমিশনারের এরকম একটি বিতর্কিত মন্তব্য করা উচিত হয়নি। বিশেষ করে নির্বাচনের মাত্র কয়েকমাস আগে এমন মন্তব্য রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি করবে এটাই স্বাভাবিক।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, সিইসি সত্য কথাই বলেছেন। মওদুদ আহমদ সিইসির পদত্যাগও দাবি করেছেন।

গতকাল রাজধানীতে এক আনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ নির্বাচন আহমেদ নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে বলেছেন, এ নির্বাচন কমিশনার সরকারের তল্পিবাহক। কিন্তু বিবেকের তাড়নায় একটি সত্য কথা বলে ফেলেছেন, আগামী নির্বাচনে অনিয়ম যে হবে না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তার এই বক্তব্যের পরেই অন্য কমিশনাররা দ্বিমত পোষণ করেছেন। এরপরে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের আর নিজের পদে থাকার কোনও অধিকার থাকতে পারে না।