অবৈধ সরকার দমননীতি নজীরবিহীন ও হিংসাশ্রয়ী : রুহুল কবির রিজভী

‘বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানকে পর্যুদস্ত করতে অবৈধ সরকার যে দমননীতির উত্থান ঘটিয়েছে তা নজীরবিহীন ও হিংসাশ্রয়ী। প্রধানমন্ত্রী যেন ব্যক্তিগত জিঘাংসা চরিতার্থ করতেই তাদের ওপর রাষ্ট্রযন্ত্রকে যথেচ্ছ ব্যবহার করে যাচ্ছেন’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন মন্তব্য করেন। সংবাদ সম্মেলনের সম্পূর্ণ বক্তব্য নিম্নরূপ।

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনের,
বর্তমান ভোটারবিহীন সরকারের স্বৈরতন্ত্র বিবর্তীত হয়ে নাৎসীবাদ অতিক্রম করে এখন ভয়ংকর হানাদারি শক্তিতে আÍপ্রকাশ করেছে। বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানকে পর্যুদস্ত করতে অবৈধ সরকার যে দমননীতির উত্থান ঘটিয়েছে তা নজীরবিহীন ও হিংসাশ্রয়ী। প্রধানমন্ত্রী যেন ব্যক্তিগত জিঘাংসা চরিতার্থ করতেই তাদের ওপর রাষ্ট্রযন্ত্রকে যথেচ্ছ ব্যবহার করে যাচ্ছেন।
অন্যায় সাজায় কারাবন্দী দেশনেত্রীর সাথে গতকাল ঈদের দিনে দলের সিনিয়র নেতাদের দেখা করতে দেয়া হয়নি। অনেক দেরিতে প্রায় আড়াই ঘন্টা কারা ফটকের বাহিরে আত্নীয়-স্বজনদের অপেক্ষা করিয়ে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে দেখা করতে দিলেও বাসা থেকে সঙ্গে আনা রান্না করা খাবার ঢুকতে দেয়া হয়নি। সকাল থেকে না খেয়ে অভূক্ত অবস্থায় দেশনেত্রী অপেক্ষা করছিলেন স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে আহার করবেন, অনেক দিন পর প্রিয় নাত্নিকে সাথে নিয়ে খাবেন। কিন্তু কারাকর্তৃপক্ষ সরকারকে খুশি করতেই খাবার নিতে দেয়নি। অভূক্ত বেগম জিয়া বুকফাটা হাহাকারে নাতনী ও আÍীয়দের সাথে খাবার খেতে পারলেন না। স্বজনদের সাথে নিয়ে একসঙ্গে খাওয়ার যে আশায় তিনি সারাদিন অভূক্ত থাকলেন, সে আশা তাঁর পূরণ হলো না। বাবাহারা নাতনীও এক বিশাল শুন্যতা নিয়ে দাদীর ওপর সরকারী নির্দয়তার বিভৎসরূপ দেখে বুকফাটা কান্না নিয়ে ফিরে আসে। দেশনেত্রীর ওপর অমানবিকতার দৃশ্য দেখে আত্মীয়-স্বজনরাও কাঁদতে কাঁদতে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন। এজিদ কর্তৃক ফোরাত তীর অবরোধের ন্যায় এ সরকার বেগম জিয়ার খবার অবরোধ করে যে ঘৃণ্য ও অমানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা শুধু মনুষত্বহীনতায় নয়, তা অবৈধ ক্ষমতার অনমনীয় হিংস্রতার একটি ভয়াবহ রুপ। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

বন্ধুরা,
নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে বিনাভোটের প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের মন্ত্রীরা প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দেশনেত্রী বেগম জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে জড়িয়ে নানা বিষয়ে উদ্ভট কথা বলে যাচ্ছেন। অবশ্য পৃথিবীর অন্যান্য দেশের একনায়ক ও স্বৈরাচারদের দৃষ্টান্ত এই রকমই। স্বৈরাচারী সরকারের ইচ্ছাতেই রাজনৈতিক বিরোধীদের মামলায় জড়ানো হয়। আইন বিচার সবই তো সরকারের হাতের মুঠোয়, সুতরাং বেআইনী সরকার তার ইচ্ছা পূরণের জন্যই নিজের মতো করে আইন ও আদালতকে ব্যবহার করে যাচ্ছে। নিম্ম আদালতে বিচারের রায়েও থাকে সরকারী প্রভাব। বাংলাদেশে ন্যায়-বিচারকে গুম করে দেয়া হয়েছে, বাংলাদেশে জোরেশোরে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে হাসিনা-বিচার। গণতন্ত্রকে অদৃশ্য করে বিরোধী দল শুন্য করতে আদালতকে ব্যবহারের জন্য এর ওপর সরকারী বন্দুক তাক করে আছে। সরকারের সমালোচক, ভিন্নমত পোষণকারী ও বিরোধী দলকে দমানোর যন্ত্র হিসেবে নিম্ম আদালতকে ব্যবহার করে হচ্ছে। সুতরাং বিরোধীদের ন্যায় বিচার পাওয়া এখন সোনার হরিণ পাওয়ার মতোই দুঃসাধ্য।

প্রধানমন্ত্রী জনগণের উদ্দেশ্যে বলেছেন, নির্বিঘ্নে নিজের বাড়ীতে ঈদ করার জন্য নাকি সরকার সবকিছু করেছেন। এই ডাহা মিথ্যাচারের নীরব প্রতিবাদে সারাদেশ উত্তাল। ঈদের দিনেই ১০ জন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন অসংখ্য। জীবন বাঁচাতে অনেক মানুষ এবার সড়ক পথের বদলে ট্রেন ও লঞ্চের দিকে বেশি ঝুঁকেছে। ঘরমুখি মানুষ পরিজনদের সাথে ঈদ উৎসবে অংশগ্রহণ করার জন্য বাদুড়ঝোলা হয়ে ট্রেনে চড়েছে। ট্রেনের ছাদ এবং ভিতর লোকে লোকারণ্য। সড়ক-মহাসড়ক যেন বধ্যভ–মি। গ্রামীন রা¯@াঘাট ধ্বংস হয়ে গেছে। দুই যানবাহনের মধ্যে মুখোম–খি সংঘর্ষ, যানবাহনের বেপরোয়া দ্রুতগতি, ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি মাল পরিবহন, অস্বাভাবিক দ্রুতগতির জন্য চালকের নিয়ন্ত্রন হারানো, বেআইন ওভারটেক ইত্যাদি নানা আইন বহির্ভ–ত কর্মকান্ডের জন্য ঈদের খুশির দিনেও বাড়ীতে বাড়ীতেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ ভ্রমন নির্বিঘ্ন করার নমুনা। যে সরকার নিজেই বেআইনী সে সরকার কখনোই যথাযথ আইন প্রয়োগ করে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না। অবৈধ ক্ষমতা ধারণকারীদের কথাবার্তায় উগ্রতা, অহমিকা ও দম্ভের প্রকাশ ঘটে সব সময়। কিন্তু এরই জন্য রাষ্ট্রের কোথাও শৃঙ্খলা ও আইন মেনে চলার বাধ্যবাধকতা নেই। কারণ রাস্তা-ঘাট ও যানবাহনে কিছু দুবৃর্ত্তরা সরকারের কাছ থেকে উৎসাহ পায়। ক’দিন আগে কোমলমতি শিশু-কিশোররা এই সময় যন্ত্র দানবের বেআইনী চলাচলের কারণে সহপাঠিদের মৃত্যুতে প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসে। তাদের আর কোন সহপাঠিদের যন্ত্র দানবের চাকার নিচে আর যেন পিষ্ট হতে না হয়, সেজন্য তারা রাস্তায় শৃংখলার সাথে নেমে গাড়ীর লাইসেন্স, গাড়ীর ফিটনেসের কাগজপত্র পরীক্ষা করে দেখিয়ে দিয়েছে সরকারের কর্তব্য কি হওয়া উচিৎ। কিন্তু সরকার সে কোমলমতি শিশু-কিশোরদের ওপর নিজেদের ক্যাডারদের লেলিয়ে দিয়ে রক্তাক্ত করলো, গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে বর্বরোচিত নির্যাতন করলো। তাতে সড়ক-মহাসড়কে বেপরোয়া গাড়ী চালকরা ও ফিটনেসহীন গাড়ীর মালিকরা আরো বেশী উৎসাহিত হয়ে উঠলো। তারা ভাবলো সরকার তাদের পক্ষে। যে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের জীবন গেলো তাদের বিরুদ্ধে সরকার। সুতরাং পবিত্র ঈদের দিনেও সড়ক-মহাসড়কে মৃত্যুর মিছিল থামলো না। কোরবাণী ঈদে মানুষের শান্তি, আনন্দ উৎসব কোরবাণী হয়ে গেল।
ওবায়দুল কাদের সাহেবকে সুস্পষ্ট ভাবে বলে রাখি, ৫ জানুয়ারীর মতো আবারো একতরফা নির্বাচন জনগণ প্রতিহত করবেই। শুন্যমাঠে আর খেলতে দেওয়া হবে না। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে, দেশনেত্রী বেগম জিয়ার নেতৃত্বেই বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। একটা জাতি রক্ত দিয়ে প্রাণ দিয়ে যে গণতন্ত্রের বিজয় পতাকা উড্ডীন করেছিলো তা আজ একতরফা বাকশালী শাসনে ভূতলে শায়ীত। সেজন্য আর একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে একদলীয় ব্যবস্থা চলতে দেয়া হবে না। আওয়ামী নেতাদের চিরকাল ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন, দুঃস্বপে- পরিণত হবে। ওবায়দুল কাদের সাহেবরা যে একতরফা নির্বাচনের প্র¯@তি নিতে শুরু করেছেন তার আলামতও তারা দেখাচ্ছেন, দেশ বরেণ্য আইনজীবী ব্যরিস্টার মত্তদুদ আহমেদকে নিজ বাড়ীতে কয়েকদিন অবরোধ করে রাখার পর গতকাল ঈদের দিনে তার বাবা-মা‘র কবর জিয়ারত করতে না দেওয়ায় মাধ্যমে। শেখ হাসিনা অধীনে নির্বাচন মানেই ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের আসতে না দেয়া। শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন হবে না এজন্যই যে, তিনি বিরোধী দল সহ্য করেন না। তিনি গণতন্ত্রকে ঘৃণা করেন। তিনি শব্দহীন কবরের শাšি@ পছন্দ করেন। একতরফা নির্বাচন করবেন বলেই তিনি প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বেগম জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারাবন্দী করেন। তাঁর বিরুদ্ধে কোন সমালোচনা তিনি সহ্য করেন না। সমালোচনাকারীদের গ্রেফতার করে পুলিশ দিয়ে রিমান্ডে নিয়ে উৎপীড়ন করান। তিনি তাঁর দল ও সরকারের সমালোচনাকারী বিএনপিসহ বিরোধী দল মত সহ, ভিন্ন মত ও বিশ্বাসী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়তই কটু ও অশ্রাব্য কথা বলে রাজনৈতিক পরিবেশকে বিষাক্ত করে তোলেন। তিনি গণমাধ্যমকে সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রনে নিয়েছেন। সমালোচনাকারী বিরোধী দলের নেতাকর্মীদেরকে গুম ও ক্রয় ফায়ার করতেও দ্বিধা করেন না। সুতরাং শেখ হাসিনার অধীনে কখনোই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। কারণ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন শেখ হাসিনাই গুম করেছেন। একমাত্র নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে হবে। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনে বেগম জিয়ার নেতৃত্বেই বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। শেখ হাসিনা ওবায়দুল কাদেরদের অধীনে ভোটার বিহীন বাকশালী নির্বাচন ঠেকাতে জনগণের শক্তির বিপুল উদগীরণ হচ্ছে। এই বেআইনী সরকার ক্ষমতায় থাকলে জনগণের জীবনে শান্তি, সু¯ি@তে, নিরাপত্তা ও আÍমর্যাদা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

জেলাঃ চুয়াডাঙ্গা
চুয়াডাঙ্গ জেলা বিএনপি সভাপতি, অহিদুল আলম বিশ্বাসকে গত ২০ আগষ্ট গ্রেতার করে পুলিশ।

জেলাঃ সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জ জেলাধীন শাহজাদপুর থানার কৈজুড়ি ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি এম এ কাইয়ুমকে গত ৩১ আগষ্ট তার নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার কর পুলিশ । উলি-খিত নেতৃবৃন্দের গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি ও দলের পক্ষ থেকে গ্রেফতারকৃত নেতাবৃন্দের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে তাদের মুক্তির দাবি করছি।
সকলকে ধন্যবাদ।