ব্রেকিং : সুখবর ! এইমাত্র ২০ দল মিলে বিএনপিকে যে সুখবর শুনালো – জানুন বিস্তারিত

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই জোরদার হচ্ছে সমমনা দলগুলো নিয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের জাতীয় ঐক্য গঠন প্রক্রিয়া।

এরই মাঝে বিএনপিও ঘোষণা দিয়েছে ‘দেশ, জনগণ ও গণতন্ত্রের’ স্বার্থে ছাড় দিতে রাজি দলটি।

মূলত আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন, তফসিলের আগে সরকারের পদত্যাগ,

নির্বাচনে সেনা মোতায়েন, সংসদ ভেঙে দেওয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট। বেশ কিছুদিন আগেই তাঁরা জোটের পরিধি বাড়ানোরও ঘোষণা দিয়েছিলেন।

কিন্তু জোট নেত্রী খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগেই ঘোষণা দিয়ে যান বৃহত্তর ঐক্য গঠনের। এর পরই রাজনীতির মাঠে আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয় সরকার বিরোধী দলগুলো নিয়ে বৃহত্তর ঐক্যের।এদিকে বিএনপির সঙ্গে ঐক্যের বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন প্রকাশ্যে কিছু না বললেও বিএনপির কর্মসূচিতে সমর্থন জানাচ্ছে তারা। আবার একইসঙ্গে নিজেদের কর্মসূচি, সভা সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এ ছাড়া যেসব দল ও সংগঠনের সাথে বৃহত্তর ঐক্যের বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে সেসব দল খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর তাঁর মুক্তি চেয়ে বক্তব্য, বিবৃতিও দিয়েছে। এমনকি খালেদা জিয়া ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হবে না বলেও দাবি করেছে তারা।

আগমী জাতীয় সংসদ নির্বাচন, খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিতে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের বিষয়ে কথা হয় ২০ দলের একাধিক নেতার সঙ্গে।

তাঁরা জানান, দেশ, জনগণ, গণতন্ত্র ও মানুষের সাংবিধানিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার মতো বৃহৎ স্বার্থে ছাড় দিয়ে হলেও জাতীয় ঐক্য গঠন করতে চায় তারা।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমাদের সামনে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। আর বৃহত্তর ঐক্য কখনো হবে না যদি না আমরা সবাই কিছু না কিছু ত্যাগ স্বীকার করি।

আমাদের দলের চেয়ারপারসনও কারাগারে যাওয়ার আগে বলে গেছেন গণতন্ত্রকামী সব দল ও সংগঠনের সাথে আলোচনা করে একটি বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে।’

ফখরুল ইসলাম আরো বলেন, ‘আমরা কাজ করছি একটি বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে। আমরা চেষ্টা করছি সব গণতন্ত্রমনা সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে ঐক্য গড়ে তোলার। সে নিয়ে কাজ চলছে। গণতন্ত্রকামী সব দলের সাথে আলোচনা চলছে আশা করি দ্রুত সেটি সফল হবে।’

২০ দলীয় জোটের শরিক এনপিপির সভাপতি ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, ‘যখন একটা জাতীয় সমস্যা সামনে আসে সেটি সমাধানের লক্ষ্যে সবাইকে এক হতে হয়। আজ দেশের মানুষ একটি সংকটপূর্ণ সময় পার করছে।

সেটি থেকে জনগণকে মুক্তি দেওয়ার জন্য আন্দোলন করছি দীর্ঘ দিন। এখন আমরা গণতন্ত্রমনা সব দলের সমন্বয়ে একটি জাতীয় ঐক্য গঠনের চেষ্টা করছি। আশা করছি দ্রুত আমরা একটি ঐক্য করতে পারব।’ তিনি আরো বলেন, ‘দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে ২০ দল যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত।

আমাদের জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে আজ মিথ্যা মামলায় কারাগরে আছেন। তিনিও কারাগারে যাওয়ার আগেই নির্দেশ দিয়েছেন একটি বৃহৎ ঐক্য গঠনে।’

ফরিদুজ্জামান বলেন, ‘যাদের সাথে জাতীয় ঐক্যের বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে তাদের এবং আমাদের দাবি একই। তাই দ্রুত ঐক্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে আমরা আশাবাদী। আর জাতীর স্বার্থে আমরা সবাই কিছু না কিছু ছাড় দিতে প্রস্তুত। সব দলের সাথে আলোচনা করেই সেটি ঠিক হবে। আগে ঐক্য গঠন করি।’

২০ দলের শরিক লেবার পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, ‘খালেদা জিয়ার নির্দেশে জাতীয় ঐক্য গঠনে কাজ করছে ২০ দলীয় জোট। আশা করছি দ্রুত ঐক্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। আর এ ঐক্য গঠনে ছাড় দিতে রাজি আছে ২০ দলীয় জোট।’

কী ধরনের ছাড় দিতে প্রস্তুত ২০ দল সে বিষয়ে জানতে চাইলে ইরান বলেন, ‘সবার আলোচনার ভিত্তিতে সেটি ঠিক হবে। তবে সরকার গঠন বা আসন ভাগাভাগি এসব বিষয়ে কোনো আলোচনা এখনো হয়নি।

এসব বিষয় তো আসবে পরে, যখন নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হবে এবং নির্বাচনের বিষয়ে আমাদের দাবিগুলো আদায় হবে তখন। আর কে সরকার প্রধান হবে বা কী হবেন সে প্রশ্ন তো আসবে ক্ষমতায় গেলে। এখনো তো নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তই হয়নি।’

ইরান আরো বলেন, ‘তবে গণতন্ত্রকামী সব দল নিজেদের মাঝে আলোচনা করে দ্রুতই একটি বৃহত্তর ঐক্য গঠন করবে। আশা করছি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই সেটি সম্পন্ন হবে।’